ট্রাম্পের ইরান অভিযান প্রত্যাহারের ইঙ্গিত, হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব অন্যান্য দেশের হাতে
ট্রাম্পের ইরান অভিযান প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব হস্তান্তর

ট্রাম্পের ইরান অভিযান প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ও হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব হস্তান্তর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুক্রবার এক ঘোষণায় তিনি এই ইঙ্গিত দেন, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও পাহারার দায়িত্ব এখন থেকে ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোর কাঁধে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্পের বিবৃতি

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।’ এই মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিন্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

নৌপথের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়া এবং সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ এখন থেকে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সেই জাতিগুলোকেই করতে হবে যারা এটি ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র এটি (ব্যবহার) করে না!’ এই বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হ্রাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ ও চলমান সংঘাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা চলমান সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করছে।