পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো ইরাক থেকে নিজেদের নিরাপত্তা পরামর্শক মিশন সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। উত্তর ইরাকে ব্রিটিশ, ফরাসি এবং ইতালীয় ঘাঁটিতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে। মিশনের সঙ্গে যুক্ত কয়েক শ কর্মীকে ইতোমধ্যেই ইউরোপে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডারের বক্তব্য
ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ নিশ্চিত করেছেন যে, গত শুক্রবার সর্বশেষ সেনাদলটি ইরাক ত্যাগ করেছে। তিনি নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য ইরাক সরকার ও মিত্রদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সেনাদের তিনি ‘প্রকৃত পেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের অবদানের প্রশংসা করেছেন।
মিশনের ইতিহাস ও উদ্দেশ্য
২০১৮ সালে এই নন-কমব্যাট মিশনটি চালু করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান, প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ বাহিনীকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পরামর্শ প্রদান করা। মূলত বাগদাদ ও এর আশপাশের এলাকায় এই মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো, যা ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
ভবিষ্যত কার্যক্রমের অবস্থান
ইরাক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর এখন থেকে এই মিশনের কার্যক্রম ইতালির নেপলসে অবস্থিত ন্যাটোর সদর দফতর থেকে পরিচালিত হবে। এই পরিবর্তন ন্যাটোর কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই প্রত্যাহার ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



