হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরান
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় যে কৌশলগত সমুদ্রপথে, সেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের একটি প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ইরান। বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেশটির একজন সংসদ সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরের উদ্যোগ
ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির বরাতে ওই সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, পার্লামেন্টে এমন একটি বিল নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে, যার অধীনে শিপিং, জ্বালানি পরিবহন এবং খাদ্য সরবরাহের জন্য এই প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে ইরানকে নির্দিষ্ট হারে টোল ও ট্যাক্স প্রদান করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চলাচলে বিঘ্ন
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সেইসব জাহাজের যাতায়াতে নিয়মিতভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যেগুলোকে তারা তাদের শত্রু বা মিত্রপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। এই প্রেক্ষাপটে টোল আরোপের প্রস্তাবকে একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালা চালু ও নিষেধাজ্ঞা পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটলে 'হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন নীতিমালা' চালু করা হবে। এই নীতিমালার ফলে যেসব দেশ ইরানের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ওপর তেহরান পাল্টা সামুদ্রিক বিধিনিষেধ প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে।
মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ মোখবার নামের ওই উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার বলেছেন, 'হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে আমরা পাশ্চাত্য দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিতে পারি।' তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক রুট হিসেবে স্বীকৃত। ইরান যদি সত্যিই এই প্রণালিতে টোল আরোপ করে, তাহলে তার প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলো এবং আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সূত্র: রয়টার্স।



