ওয়াশিংটনে মার্কিন মন্ত্রীদের বাসার ওপর অজানা ড্রোন শনাক্ত, ইরানের হামলার শঙ্কা
ওয়াশিংটনে মার্কিন মন্ত্রীদের বাসার ওপর অজানা ড্রোন শনাক্ত

ওয়াশিংটনে মার্কিন মন্ত্রীদের বাসার ওপর অজানা ড্রোন শনাক্ত, ইরানের হামলার শঙ্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের ড্রোন শনাক্ত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই মনুষ্যবিহীন আকাশযানটি এমন একটি স্থানের ওপর দেখা গেছে যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বসবাস করেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ড্রোনের উৎস এখনো অজানা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি যে ড্রোনটি কোথা থেকে ওয়াশিংটনের আকাশে প্রবেশ করেছে অথবা এটি কোনো সামরিক হামলা কিনা। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত তিনজন সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ফোর্ট ম্যাকনায়ার সামরিক ঘাঁটির ওপর ড্রোনটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

এই ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এমনকি ড্রোনের উপস্থিতির কারণে কর্মকর্তারা রুবিও এবং হেগসেথকে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে ইরান এমন প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে যা দিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালানো সম্ভব। ইরানে মার্কিন আগ্রাসন শুরু হওয়ার আগেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই একটি সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল যে, ইরান আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলা চালাতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের একটি সেনাক্যাম্পের ওপর অজ্ঞাত পরিচয়ের ড্রোন শনাক্ত করেছেন। এই ক্যাম্পটি রুবিও এবং হেগসেথের বাসস্থানের কাছাকাছি অবস্থিত। ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও ইরানের সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে ড্রোনটি কোনো সামরিক হামলা কিনা অথবা এটি কোথা থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো ড্রোনটির উৎস শনাক্ত করতে পারেননি, তবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এই ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী ড্রোন হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।