ইরানে বিক্ষোভের সময় পুলিশ হত্যার দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইরানে বিক্ষোভের সময় পুলিশ হত্যার দায়ে তিনের মৃত্যুদণ্ড

ইরানে বিক্ষোভের সময় পুলিশ হত্যার দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানের বিচার বিভাগ বৃহস্পতিবার তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে রাজধানী তেহরানে সংঘটিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় পুলিশ হত্যা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

বিক্ষোভ ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গত জানুয়ারিতে ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছিল। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে রাজপথে বিভিন্ন গাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছিল। সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।

বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুমকি দিয়েছিলেন। এর দুই মাসের মধ্যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সরাসরি আক্রমণ শুরু করে। এই আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যুদণ্ডের বিস্তারিত

ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি গত জানুয়ারির অস্থিরতার সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুই সদস্যকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে জায়নবাদী গোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছিল।

দেশটির বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ সকালে এই তিন ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। যুদ্ধ তিন সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহত হওয়ার বেশির ভাগ ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংঘটিত হয়েছে। ইরান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, তারা ইরানে ৬ হাজার ৮৭২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১১ হাজারের বেশি ঘটনার তদন্ত করছে। জাতিসংঘের একজন বিশেষ দূত জানিয়েছিলেন, ইন্টারনেটে কঠোর কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহত মানুষের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য মৃত্যুদণ্ড ও অভিযান

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান একজন সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে বলে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ একজন কথিত ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল।

গতকাল বুধবার ইরানি কর্তৃপক্ষ সারা দেশে আরও শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার এবং মার্কিন-ইসরায়েলিদের পক্ষে কাজ করে যাওয়া ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়। দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টিতে ১১১টি ‘রাজতন্ত্রপন্থী সেল’–কে গতকাল রাতভর অভিযানের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের পর কথিত গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর অভিযানে নেমেছিল। তখন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ইরানে চলমান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।