ট্রাম্পের কিউবা দখলের হুমকিতে প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানেলের কঠোর প্রতিক্রিয়া
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ দখলের হুমকির জবাবে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিউবা দখলের চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র 'অভেদ্য প্রতিরোধ' এর সম্মুখীন হবে। ডিয়াজ-ক্যানেলের এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন কিউবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তৈরি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
মার্কিন হুমকি ও কিউবার অর্থনৈতিক সংকট
প্রেসিডেন্ট ডিয়াজ-ক্যানেল এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র 'প্রায় প্রতিদিন'ই কিউবার সাংবিধানিক ব্যবস্থা বলপূর্বক উৎখাতের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন নিজেই ছয় দশকের বেশি সময় ধরে কিউবার অর্থনীতিকে 'আক্রমণ ও বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা' করেছে এবং এখন সেই দুর্বল অর্থনীতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
ডিয়াজ-ক্যানেলের মতে, দখলের পরিকল্পনাই 'সমগ্র জনগণের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক যুদ্ধের' একমাত্র ব্যাখ্যা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কিউবার একটি গ্যারান্টি আছে: যেকোনো বাহ্যিক আক্রমণকারী অভেদ্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে।'
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও কিউবার অবস্থা
সোমবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিউবা 'মুক্ত করা বা দখল করার সম্মান' পেতে পারেন বলে মনে করেন। তিনি দাবি করেন, 'আমি এর সাথে যা খুশি তাই করতে পারি।' ট্রাম্প কিউবাকে 'অত্যন্ত দুর্বল জাতি' এবং 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' বলে বর্ণনা করেছেন, যাদের 'টাকা নেই, তেল নেই, কিছুই নেই।'
মঙ্গলবার তিনি তার বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, 'কিউবা বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থায় আছে' এবং 'আমরা খুব শীঘ্রই কিউবার সাথে কিছু করব।' মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন যে কিউবার সম্প্রতি ঘোষিত নির্বাসিতদের বিনিয়োগ ও ব্যবসার অনুমতি ট্রাম্প প্রশাসনের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা ও আঞ্চলিক প্রভাব
কমিউনিস্ট কিউবা ১৯৫৯ সালের ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দশক ধরে মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কিউবা সম্প্রতি ২৯ ঘণ্টারও বেশি সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, যার কারণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
এই বিভ্রাটটি ঘটেছে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবার তেল সরবরাহ বন্ধ করার পর, যা কিউবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল। ২০২৬ সালে ভেনেজুয়েলায় হামলার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, 'পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন আধিপত্য কখনোই প্রশ্নের মুখোমুখি হবে না।' দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবার বিরুদ্ধে হুমকি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সমাধানের পথে আলোচনা ও উত্তেজনা
কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে, যদিও কোনো পক্ষই চলমান আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি। ট্রাম্প কিউবাকে চুক্তি করার জন্য 'মরিয়া' বলে চিত্রিত করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কিউবার অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
