ইরানে ১০ বিদেশি গুপ্তচর গ্রেপ্তার: যুদ্ধকালীন উত্তেজনায় আইআরজিসির অভিযান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ১০ জন বিদেশি গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করার দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজাভি খোরাসান প্রদেশের আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও অভিযোগ
দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা-র বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ধৃত ব্যক্তিদের ভাড়াটে ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ জন ইরানের সংবেদনশীল স্থাপনা এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কাজে লিপ্ত ছিলেন। বাকি সদস্যরা একটি রাজতন্ত্রী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে অভিযানের তাৎপর্য
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা নসাৎ করতে আইআরজিসি তাদের নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইরানের অভিযোগ, পশ্চিমী শক্তি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা দেশের ভেতর অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চরবৃত্তি ও নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ধৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিতভাবে এমন গ্রেপ্তারের খবর প্রচার করলেও এবারের প্রেক্ষাপট সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাত কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশেষ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়ে যারা গুপ্তচরবৃত্তি করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ডামাডোল এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান যখন লড়ছে, তখন দেশের অভ্যন্তরে এমন গ্রেপ্তার অভিযান ইরানের কঠোর অবস্থানকেই প্রতিফলিত করছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে প্রস্তুত এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অব্যাহতভাবে শক্তিশালী করে চলেছে।
