ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও ইরানি ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি হামলা: নিহত ৪
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এই হামলাগুলো ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের মাটিতে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বাগদাদের উচ্চ সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। দূতাবাসের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও একটি ড্রোন সরাসরি প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। তবে এই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিএমএফ ঘাঁটিতে বিমান হামলা ও নিহতের ঘটনা
এর কিছু সময় পরই বাগদাদের জাদরিয়া জেলায় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং ভবনটিতে ইরানি উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন। ইরাকি সেনাবাহিনীর দাবি, সিরিয়া সীমান্তবর্তী আল-কায়েম এলাকায় পিএমএফের একটি চেকপোস্টে মার্কিন হামলায় আটজন সেনা সদস্য নিহতের প্রতিশোধ হিসেবেই এসব ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, এবং সেনাবাহিনী এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী ঘটনা
মূলত ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের মাটিতে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে সোমবার রাতে গ্রিন জোনে অবস্থিত আল-রশিদ হোটেলে একটি ড্রোন আঘাত হানে, যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আল-জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেল ওয়াহেদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরকবাহী ড্রোনটি হোটেলের ছাদে আঘাত হানলেও সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন।
সহিংসতার প্রভাব ও তেল খাতে আঘাত
সহিংসতার আঁচ ইরাকের তেল খাতের ওপরও পড়েছে। সোমবার দক্ষিণ বসরা প্রদেশের মজনুন তেলক্ষেত্রে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এছাড়া ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইরাকের তেল শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতির উত্তরণে ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আব্দুল-গনি জানিয়েছেন, কিরকুক থেকে তুরস্ক পর্যন্ত তেল পাইপলাইনটি এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় সচল হবে, যার ফলে স্থগিত হওয়া তেল রফতানি আবার শুরু করা সম্ভব হবে।
কাতায়েব হিজবুল্লাহ কমান্ডারের মৃত্যু
এদিকে, ইরাকের পিএমএফের অন্যতম বৃহৎ গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহ তাদের সিনিয়র কমান্ডার আবু আলী আল-আসকারির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, যা এই অঞ্চলের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
