মার্কিনিদের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব বাড়ছে: জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মার্কিনিদের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব বাড়ছে

মার্কিন জনমতের বড় পরিবর্তন: ইসরাইল বিরোধী মনোভাব বাড়ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি নতুন জাতীয় জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জরিপের মূল ফলাফল

এনবিসি নিউজ পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ আমেরিকান ইসরাইল সম্পর্কে ইতিবাচক মত পোষণ করেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। এই পরিসংখ্যান তিন বছর আগের তুলনায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন নির্দেশ করে। ২০২৩ সালে ৪৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে ইতিবাচকভাবে দেখতেন এবং ৩৪ শতাংশ নেতিবাচক ছিলেন।

জরিপটি ফেব্রুয়ারি ২৭ থেকে মার্চ ২-এর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল, এমন এক সময়ে যখন গাজায় দুই বছর ধরে নেতানিয়াহু সরকারের আগ্রাসনের পর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইল সমর্থন একটি বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক দলভিত্তিক বিশ্লেষণ

ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন: ২০২৩ সালে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইল নিয়ে মতামত প্রায় সমান ছিল—৩৪ শতাংশ ইতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ নেতিবাচক। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এখন মাত্র ১৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ইসরাইলকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, আর ৫৭ শতাংশ নেতিবাচক মত পোষণ করেন।

স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থান: স্বতন্ত্র ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। আগে যেখানে ৪০ শতাংশ ইতিবাচক ও ২২ শতাংশ নেতিবাচক মত ছিল, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশ ইতিবাচক এবং ৪৮ শতাংশ নেতিবাচক।

রিপাবলিকানদের তুলনামূলক স্থিতিশীলতা: অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মনোভাবে তুলনামূলক কম পরিবর্তন এসেছে। তাদের মধ্যে ইতিবাচক মত ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৫৪ শতাংশ হয়েছে, আর নেতিবাচক মত ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে।

সহানুভূতির প্রশ্নে বিভাজন

জরিপে আরও দেখা গেছে, আমেরিকানদের মধ্যে এখন ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতির প্রশ্নে প্রায় সমান বিভাজন রয়েছে। ২০১৩ সালে ৪৫ শতাংশ আমেরিকান ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন, যেখানে মাত্র ১৩ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন। বর্তমানে এই ব্যবধান প্রায় নেই—৪০ শতাংশ ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন, আর ৩৯ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। ২০১৩ সালে তারা ৩৪ শতাংশ বনাম ১৮ শতাংশ ব্যবধানে ইসরাইলের পক্ষে ছিলেন। এখন ৬৭ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি দেখান, আর মাত্র ১৭ শতাংশ ইসরাইলের পক্ষে।

প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য ও রাজনৈতিক প্রভাব

জরিপে প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্যও উঠে এসেছে। তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ও সহানুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হারে কমেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ আরও বাড়িয়েছে এবং ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত আড়াই বছরে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই ঘটনাগুলো মার্কিন জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ার কারণেই এই সামগ্রিক পরিবর্তন ঘটেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের উপস্থিতি এই মনোভাব পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।