হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তায় ট্রাম্পের নৌবাহিনী জোট আহ্বান, মিত্রদের অনীহায় বাধা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নৌবাহিনী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববাজারে আসা মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেলবাজার ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের জোট আহ্বান ও মিত্রদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার শতভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলরেখায় ব্যাপক বোমা হামলা চালাবে। তবে তাঁর এই আহ্বানে কোনো মিত্র দেশই প্রকাশ্যে সাড়া দেয়নি। লন্ডন বলেছে, তারা প্রণালিটি আবার খোলার উপায় নিয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করছে, জাপান অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে, ফ্রান্সও যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের অবস্থান ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলীরেজা টাংসিরি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি সামরিকভাবে অবরুদ্ধ করা হয়নি, এটি কেবল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজ ব্যতীত। হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং এর সংকীর্ণ স্থান মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল চওড়া, যা তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও অন্যান্য দেশের আলোচনা
ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রু হুদিস্টেয়ানু বলেন, হরমুজ প্রণালির ভূপ্রকৃতি ও ইন্টারঅপারেবিলিটি সমস্যা নৌবাহিনী জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ চাপ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশ করায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েছেন এবং যুদ্ধ শেষ করার কোনো পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তাঁর নৌবাহিনী জোট আহ্বান বাস্তবায়ন না হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেলবাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
