ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: টানা ১৭ দিনের হামলা ও উত্তেজনার নতুন মাত্রা
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান যদি শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করে, তবে এই অভিযান চলতেই থাকবে। অন্যদিকে, ইরান দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং এই যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র অধিকার তাদেরই রয়েছে।
ইসরায়েলের তিন সপ্তাহের পরিকল্পনা ও লক্ষ্যবস্তু
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইরানে এখনো হাজার হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং তারা এসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এফি ডেফরিন বলেন, "আমাদের এখনো ইরানে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং আমরা প্রতিদিন নতুন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা আগামী অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছেন, যা ইহুদিদের পাসওভার উৎসব পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু তাই নয়, এই তিন সপ্তাহের পরের সময়ের জন্য আরও গভীর ও বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
যুদ্ধের ভয়াবহতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির আহ্বান
ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রিয়ামন্ত্রী মিকি জোহার দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ইসরায়েলের সবাইকে এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মিকি জোহার ইসরায়েলের রেডিও ১০৩এফএম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা জানি সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই আগামীর দিনগুলোতে ইসরায়েলের সবাইকে আরও প্রস্তুত থাকতে হবে। খুব সম্ভবত এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ চলবে।"
তিনি আরও যোগ করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ খুব সম্ভবত আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের দৃঢ় অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতির কারণে যুদ্ধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
