সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি, আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দেশটির আকাশ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা বর্তমানে ইরান থেকে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা করছে। তবে এই হুমকির বিস্তারিত বিবরণ বা উৎস সম্পর্কে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে শোনা যাওয়া আওয়াজগুলো আসলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলিকে আকাশ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ‘ইন্টারসেপ্ট’ বা বাধা দেওয়ার শব্দ।
দুবাই বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ঘটনার আগে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার ভোরে, বিমানবন্দরের কাছেই একটি ড্রোনের আঘাতে জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় বলে বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুনরায় ঘোষণা করে যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সমস্ত যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। যাত্রীদের জানানো হয়েছে, সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে তারা যেন তাদের সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বিমান পরিবর্তন ও যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
বিবিসি নিউজ আরও জানিয়েছে, কিছু বিমানকে দুবাইয়েরই আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—আল মাখতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমিরেটস এয়ারলাইন্স ঘোষণা করেছে যে তারা স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরে সীমিতভাবে তাদের পরিষেবা শুরু করবে, তবে অন্য অনেক ফ্লাইট বাতিল করেছে তারা। দুবাইতে এক বিমানযাত্রী বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তারা এখনও বিমানবন্দরেই আটকে আছেন এবং বিবিসির কাছেই তিনি প্রথম জানতে পারেন আগুন লাগার বিষয়টি। তিনি বলেন, প্রায় ৪০ মিনিট বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করার পরে বিমানের পাইলট ঘোষণা করেন যে একটি নিরাপত্তার ঘটনা হয়েছে এবং আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে যাত্রীদের বিশদে ঘটনাটি সম্পর্কে জানানো না গেলেও, এটি ভালো হয়েছে, কারণ নাহলে গোটা বিমানবন্দরে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারত।
এই ঘটনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে আকাশ-প্রতিরোধী ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও বিমান চলাচলে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ এটি আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।
