গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ১৩ নিহত

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশুসহ ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় রবিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী, দুই শিশু এবং ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই হামলার খবর প্রথম প্রকাশ করে।

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত

গাজার মধ্যাঞ্চলীয় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। আল-আকসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এক দম্পতি এবং তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। ওই নারী যমজ সন্তানের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও হামলায় তাদের ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশীও প্রাণ হারিয়েছেন।

পুলিশ গাড়ি লক্ষ্য করে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর-দক্ষিণ ফিলাডেলফি করিডোরের প্রবেশমুখে পুলিশের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় মধ্য গাজার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আব ইউসুফসহ মোট ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আল-আকসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৯ জনের মৃত্যু এবং ১৪ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতিতে বলেছে, "পবিত্র রমজান মাসে বাজার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর এই জঘন্য অপরাধ করা হয়েছে।" তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজায় চলমান সংঘাত ও হতাহতের পরিসংখ্যান

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি 'যুদ্ধবিরতি' চুক্তির জন্য আলোচনা চললেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলাগুলো গাজার বেসামরিক জনগণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও গাজায় সহিংসতা থামছে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছে।