ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জনসংযোগ বিভাগ ঘোষণা করেছে যে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানের লক্ষ্যবস্তুতে ৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কৌশলগত অস্ত্রের ব্যবহার
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে এই হামলায় খোররামশাহর সুপার-হেভি মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্বৈত ওয়ারহেডের সমন্বয়ে তৈরি। এছাড়াও, খায়বার-শাখান, কদর, এমাদ এবং প্রথমবারের মতো অপারেশন সাদেক প্রমিজ এ চারটি কৌশলগত জ্বালানি চালিত সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র নিযুক্ত করা হয়েছে।
সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেজিল হলো একটি মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে তেল আবিবের দূরত্ব মাত্র সাত মিনিটে পাড়ি দিতে সক্ষম, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরান থেকে আসা আরেক দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করেছে। আগের দফার হামলার খবর আসার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই নতুন হামলাটি চালানো হয়েছে, যা সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
টানা হামলার প্রেক্ষাপট
টানা ১৭ দিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চলছে। এই হামলাগুলোতে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে, বিশেষ করে মানবিক সংকটের দিক থেকে।
এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের হামলাগুলো আরও ব্যাপক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব শান্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
