ট্রাম্পের নৌ সক্ষমতা দাবি নিয়ে আইআরজিসির তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের নৌ সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই মনে করে যে ইরানের নৌবাহিনী অকার্যকর, তবে তাদের উচিত সাহস করে পারস্য উপসাগরে নিজেদের জাহাজ পাঠানো।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও হুঁশিয়ারি
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের মাধ্যমে জেনারেল নাইনি গত সোমবার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, 'হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি হলে তার কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে'। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, 'ট্রাম্প কি বলেননি যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে? যদি তাই হয়, তবে তার উচিত সাহস দেখিয়ে পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠানো'।
সংঘাতের পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ হুমকি
জেনারেল নাইনি বর্তমান সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের সামরিক কার্যক্রমের একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যানও উপস্থাপন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- ইরান 'আমেরিকান ও জায়নিস্ট' লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
- এই যুদ্ধকালীন সময়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন যে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত অস্ত্রগুলোর ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে। যতক্ষণ না ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পূরণ হচ্ছে এবং শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণভাবে দমিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই হামলা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই বিবৃতির মাধ্যমে আইআরজিসি পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ও সামরিক শক্তি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। জেনারেল নাইনির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে প্রস্তুত এবং যেকোনো বহিরাগত হুমকির মুখে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
