ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অনিশ্চিত
ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে

ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অনিশ্চিত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করায় ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানালেও ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিষয়টি নাকচ করেছেন। চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ৫৪তম ধাপে হামলার দাবি করেছে।

ইরানের ক্রমাগত হামলা ও প্রতিরক্ষা চাপ

গত বছর ইরানের সঙ্গে সংঘাতে বিপুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল ছিল। বর্তমান যুদ্ধে ইরানের টানা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ যুক্ত করেছে, যা প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে এবং ইন্টারসেপ্টর মজুত দ্রুত শেষ করে দিচ্ছে।

মার্কিন উদ্বেগ ও অস্পষ্টতা

ওয়াশিংটন কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর মজুত রয়েছে এবং তাদের কোনো সংকট নেই। তবে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট, কারণ নতুন সরঞ্জাম মার্কিন মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইসরায়েলের জরুরি পদক্ষেপ

ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা চাপের মুখে পড়ায় দেশটি ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জরুরি বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এই অর্থ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হবে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্যমতে, গত জুনে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টির বেশি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছিল, যা তাদের মজুতের এক-চতুর্থাংশের সমান। বর্তমান যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ব্যয় হয়েছে।

রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশটির কাছে ‘কার্যত অসীম’ যুদ্ধাস্ত্রের মজুত রয়েছে, কিন্তু এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটি ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সবকিছু তাদের আছে এবং ইসরায়েল নিজেই সংকট মোকাবিলার সমাধান খুঁজে বের করছে।