ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে মার্কিন জনমত: জরিপে বিভাজন ও শঙ্কার ছবি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাব নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি বিস্তারিত চিত্র প্রকাশ করেছে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এই জরিপে ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন ও গভীর শঙ্কা পরিলক্ষিত হয়েছে।
সামরিক অভিযানে মার্কিন ভোটারদের বিভক্ত মতামত
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ মার্কিন ভোটার বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধী। বিপরীতে, ৪০ শতাংশ ভোটার এই ধরনের হামলা সমর্থন করছেন। তবে ইরানের মাটিতে মার্কিন স্থলসেনা বা গ্রাউন্ড ফোর্স পাঠানোর প্রশ্নে মার্কিনিদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ইরানে মার্কিন সৈন্য মোতায়েনের ঘোর বিরোধী। তারা দৃঢ়ভাবে মনে করেন, সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না এবং এটি একটি বিপজ্জনক কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভীতি
এই সম্ভাব্য সংঘাতের সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এই ভীতি মার্কিন জনমতকে যুদ্ধের বিপক্ষে রাখতে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ইসরাইল ইস্যুতে মার্কিন সমাজের সমান বিভাজন
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরাইলকে কেন্দ্র করে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সমর্থন দিচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, ঠিক সমসংখ্যক ভোটার অর্থাৎ আরও ৪৪ শতাংশ মনে করেন যে ইসরাইলকে দেওয়া বর্তমান সমর্থনের মাত্রা একদম সঠিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ। জনমতের এই ভারসাম্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরাইল ইস্যুতে মার্কিন সমাজ এখন সমান দুই ভাগে বিভক্ত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
এই জরিপটি মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। সূত্র: আলজাজিরা।



