পাকিস্তানে আফগানিস্তানের ড্রোন হামলা: বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও বেসামরিক নাগরিক আহত
পাকিস্তানের কোয়েটা অঞ্চলের সারাহ গারগাই এলাকায় একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে ড্রোন আঘাত হেনেছে এই বাড়িতে। শনিবার সংঘটিত এই ঘটনায় দুই শিশু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামলার বিস্তারিত ও আহতের সংখ্যা
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডিতে তাদের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি হামলা চালানো হয়েছিল, তবে সেটি প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়াও, কোয়েটা অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছেন। পেশোয়ারের দক্ষিণে কোহাত অঞ্চলেও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
হামলার পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আকাশসীমা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে আফগানিস্তানের তালেবানের হাতে উন্নত ড্রোন নেই, বরং তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ও পূর্ববর্তী ঘটনা
আফগানিস্তানের ড্রোন হামলার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান সহ্য করবে না। প্রতিবেশীদের ওপর সন্ত্রাসবাদ চালানোর জন্য আফগানিস্তানের মাটিকে অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে না।'
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির তিনটি অঞ্চলে হামলা চালায় পাকিস্তান। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছিলেন, যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তালেবান। গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, যা সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল বলে ইসলামাবাদ দাবি করেছিল।
দ্বিপাক্ষিক সংঘাত ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের মিশনের গত শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এসব সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ এবং ড্রোন হামলার মতো ঘটনাগুলো বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
