মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-মার্কিন সংঘাতের নতুন মাত্রা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবে ইরানি হামলার বিস্তারিত
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলেও ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, ছয়জন নিহত
এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পশ্চিম ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার (১৩ মার্চ) এই মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি শত্রু বা বন্ধুভাবাপন্ন কোনো পক্ষের হামলার কারণে ঘটেনি।
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও চলমান সংঘাত
পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরাকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাকে 'মর্মান্তিক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে কুয়েত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলায় আরও সাতজন সেনা নিহত হয়েছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের এই বহুমুখী যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
বিভিন্ন দাবি ও প্রতিক্রিয়া
ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, তেহরান যদি পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখে তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রিফুয়েলিং বিমানের গুরুত্ব
উল্লেখ্য, কেসি-১৩৫ বিমানগুলো ১৯৫০-এর দশকে তৈরি হলেও এগুলো মার্কিন বিমান বাহিনীর আকাশে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই বিমানগুলো মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ক্রমাগত বাড়ছে। সৌদি আরবে ইরানি হামলা এবং ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
