ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা হামলার প্রতিশোধের ঘোষণা
ভারত মহাসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি শনিবার (১৪ মার্চ) সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আইআরআইএস দেনা-এর ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষ করে ইরানে ফিরে আসছিল। সে সময় সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে শতাধিক ক্রুকে হত্যা করা হয়। আমরা এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেবো।’
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রের বিশাখাপত্তমে আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া মিলন ২০২৬ আয়োজন করা হয়। ৭০টিরও বেশি দেশ এই মহড়ায় নিজেদের এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অংশ নেয়, যার মধ্যে ইরানও ছিল। ইরান নিজেদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা নিয়ে মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। মহড়া শেষে ইরানে ফেরার পথে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় আইআরআইএস দেনা।
জাহাজটিতে থাকা ১০৪ জন ক্রুর মধ্যে ৯৪ জনই নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। শুক্রবার এসব মরদেহ তেহরানে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি
মেজর জেনারেল হাতামি আরও বলেন, ‘আইআরআইএস দেনা-এর ক্রুরা ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকবেন। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।’ এই হামলাকে তিনি একটি বিনা উসকানির আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইরানের পক্ষ থেকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া মিলন ২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে নৌ সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়েছিল। তবে, হামলার ফলে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের প্রতিশোধের ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
