মার্কিন হামলার পরও ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামো অক্ষত: ইরানি গণমাধ্যম
ইরানি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন হামলার পরও ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল বিদেশে পাঠানো হয়।
ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দ্বীপটিতে চালানো হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরান এর আগেই সতর্ক করে বলেছিল, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত তেল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, মার্কিন অভিযানে নিম্নলিখিত লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে হামলা চালানো হয়:
- সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- জোশান নৌঘাঁটি
- বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার
- ইরান কন্টিনেন্টাল শেলফ অয়েল কোম্পানির হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হামলার পরও দ্বীপটির তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রয়েছে এবং সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
হামলার প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে এই দ্বীপে মার্কিন হামলার দৃশ্য দেখা যায়। সিএনএন-এর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে যখন জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামো অক্ষত থাকা ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
