ইরাকের কুর্দিস্তানে ফরাসি সেনা নিহত, ইরানপন্থি গোষ্ঠীর দাবি
ইরাকে ফরাসি সেনা নিহত, ইরানপন্থি গোষ্ঠীর হামলা

ইরাকের কুর্দিস্তানে ফরাসি সেনা নিহত, ইরানপন্থি গোষ্ঠীর হামলা

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলে সংঘটিত এক হামলায় ফ্রান্সের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন ফরাসি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

নিহত সেনার পরিচয় ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া

ম্যাক্রোঁ জানান, নিহত সেনাসদস্যের নাম আর্নল্ড ফ্রিয়ন। তিনি চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে ইরবিল অঞ্চলে দায়িত্বরত ছিলেন। এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, আর্নল্ড ফ্রান্সের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। ইরাকে আমাদের অবস্থান ছিল কঠোরভাবে সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এই ধরনের হামলাকে বৈধতা দিতে পারে না।

হামলার দায় স্বীকার ও ইরাকের পরিস্থিতি

বাগদাদ থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানিয়েছেন, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাক এখন ‘দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে। ইরবিল ও বাগদাদের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কনসুলেট লক্ষ্য করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

ফরাসি ও ইতালির সামরিক অবস্থান

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরাকের ইরান-পন্থি গোষ্ঠী আসহাব আহল আল-কাহফ শুক্রবার এক বিবৃতিতে হুমকি দিয়েছে যে, ইরাক ও এই অঞ্চলে অবস্থিত ফরাসি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা এখন থেকে তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। এর আগে গত বুধবার ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় ফরাসি সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের উল্লিখিত আহত সেনারা তারাই কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালির সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, ইরবিলে অবস্থিত তাদের একটি ঘাঁটিতে গত রাতে বিমান হামলা হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে ন্যাটোর কর্মীরা অবস্থান করেন। তবে এএফপির তথ্যমতে, ইতালির কোনও সেনাসদস্য এই হামলায় আহত হননি।

ফ্রান্সের সামরিক পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তৃতি রোধে ফ্রান্স তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্সের রণতরি শার্ল দ্য গল-কে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সাইপ্রাসে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসি সরকার।

ইরাকে ফরাসি বাহিনীর ইতিহাস

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস-বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে ইরাকে ফরাসি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই মোতায়েন সন্ত্রাসবাদ দমনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বাড়ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।