ট্রাম্পের দাবি: ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত তবে গুরুতর আহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, মোজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত আছেন, তবে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান জল্পনা-কল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য
ফক্স নিউজের ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি সম্ভবত (জীবিত) আছেন। আমার ধারণা, তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে সম্ভবত বেঁচে আছেন।’ গত বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজ এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের নতুন নেতার অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য
ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে, ইরানি কর্মকর্তারা মোজতবা খামেনির অবস্থা সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। গত বুধবার এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সামান্য আঘাত পেয়েছেন, তবে তিনি দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মোজতবাকে ‘রণাঙ্গনে আহত’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
নেতা নির্বাচন ও প্রকাশ্য উপস্থিতির অভাব
গত রোববার ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এই নির্বাচনের পর থেকে ইরানিরা তাকে আর প্রকাশ্যে দেখেননি। গত বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন উপস্থাপক তার দেওয়া প্রথম বক্তব্যটি পড়ে শোনান, যা সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে রেকর্ডকৃত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্ব পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনই মোজতবা খামেনির বাবা এবং দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণ এবং তার আহত হওয়ার খবর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মোজতবা খামেনির প্রথম বক্তব্য
মোজতবা খামেনি তার প্রথম বক্তব্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, অন্যথায় সেসব ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালাবে। এই বক্তব্য ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছাকে তুলে ধরে।
ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য থাকলেও, উভয় পক্ষই স্বীকার করছে যে মোজতবা খামেনি কোনো না কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



