ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন হামলার ১৪তম দিন, নিহতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়েছে
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা শুক্রবার (১৩ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৪ দিনে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করলে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ার বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, তারাই ঠিক করবে এই যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হবে, যা তাদের দৃঢ় প্রতিরোধের মনোভাব প্রকাশ করে।
হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি ও তেহরানে বিস্ফোরণ
এমন প্রেক্ষাপটে, ইরানে হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। শুক্রবার সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি অংশে বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরানের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে উত্তরাঞ্চলীয় দুইটি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, বাসিন্দাদের ঘর পর্যন্ত কাঁপছিল, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের দক্ষিণ অংশেও তীব্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সেই সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই সংঘাতের ফলে ইরানে একটি গভীর মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে, যেখানে বেসামরিক নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। যুদ্ধের এই দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



