ইরানে বাংকার বাস্টার বোমা নিয়ে মার্কিন বি-১ বিমান প্রস্তুত, পাল্টা হুমকি ইরানের
ইরানে বাংকার বাস্টার বোমা নিয়ে মার্কিন বি-১ বিমান প্রস্তুত

ইরানে মার্কিন বি-১ বিমান বাংকার বাস্টার বোমা নিয়ে প্রস্তুত, পাল্টা হুমকি ইরানের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভান্ডার ধ্বংস করতে নিজেদের শক্তিশালী বি-১ বোমারু বিমানগুলোকে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমায় সজ্জিত করছে। এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পেন্টাগন হয়তো ইরানের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বি-১ বিমানের সজ্জায় পরিবর্তন

বুধবার যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত একটি মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ বোমারু বিমানের মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে সেখানে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (জেডিএএম) বা বাংকার বাস্টার বোমা বহনের উপযোগী করা হচ্ছে। সাধারণত বি-১ বিমানগুলো শত শত মাইল দূর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম হলেও, বর্তমানে যে জেডিএএম বোমা দিয়ে এগুলো সজ্জিত হচ্ছে, তা নিক্ষেপ করতে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ২৫ মাইলের মধ্যে থাকতে হয়।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের আকাশসীমার গভীরে ঢুকে সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, তাদের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা ড্রোন ভান্ডারগুলো এখন আর নিরাপদ নয়।

ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা আঘাত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা গত কয়েক দিনে তেহরান অভিযানের মধ্যে একটি পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন কম্পাউন্ডে হামলা করেছে।

আইডিএফ বলছে, ‘তালেঘান’ নামের এই কম্পাউন্ডটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে ইরান ব্যবহার করত। এছাড়া, আইডিএফ লেবাননে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং লেবানন দখলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব

এই সামরিক প্রস্তুতির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন বাহিনীর সরাসরি হামলার সম্ভাবনা ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

এদিকে, ইরানের সরকারি মিডিয়া মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানালেও, সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে।