ইরাকে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলা: মার্কিন সৈন্য আহত, ইতালি সেনা প্রত্যাহার
ইরাকে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলা, মার্কিন সৈন্য আহত

ইরাকে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলা: মার্কিন সৈন্য আহত, ইতালি সেনা প্রত্যাহার

উত্তর ইরাকের এরবিলে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধানরা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলাটি ঘটেছে বুধবার রাতে, যখন ব্রিটিশ বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও অন্যান্য ড্রোনগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে ঘাঁটিতে আঘাত হানে।

হামলার বিস্তারিত ও প্রতিক্রিয়া

পারমানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন শাখার সহকারী চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার গাই ফোডেন জানান, ‘গত রাতে এরবিল ও বাগদাদ উভয় স্থানেই বেশ কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত সুসমন্বিত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এরবিলে আমাদের কর্মীরা রয়েছেন, যারা বর্তমানে ওই ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় সাহায্য করছেন। গত রাতে তারা ক্যাম্পের দিকে আসা দুটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছেন। তবে বেশ কিছু ড্রোন ক্যাম্পে আঘাত হেনেছে।’

অজ্ঞাত সংখ্যক ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক বোম্ব’ (আত্মঘাতী ড্রোন) ঘাঁটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আঘাত হানে, যার ফলে তারা আহত হন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় সফল হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পূর্ববর্তী হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

গত ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার স্থান থেকে মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যে ব্রিটিশ কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। এর একদিন পর সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের বিমান ঘাঁটি ‘আরএএফ আক্রোতিরিতে’ একটি ড্রোন আঘাত হানে। সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের মতে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ‘সামান্য’

ব্রিটিশ এমপি জেরেমি করবিন মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘কিয়ার স্টারমার ব্রিটেনকে আরও একটি অবৈধ যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে গেছেন। এটি করে তিনি আমাদের সবার নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকার যত তাড়াতাড়ি তার ভুলের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে ততই মঙ্গল। তার অর্থ এই অবৈধ যুদ্ধে তার জড়িত থাকা বন্ধ করা ও ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর বিদেশি ব্যবহার বা অনুমতি বাতিল করা।’

মার্কিন বোমারু বিমানের ব্যবহার ও ইতালির প্রত্যাহার

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলোতে হামলার লক্ষ্যে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে। গত এক সপ্তাহে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অসংখ্য মার্কিন বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান ইরানে হামলা চালানোর জন্য উড্ডয়ন করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনটি বোমারু বিমান একটি মার্কিন স্ট্রাইক মিশন থেকে ফিরে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছে।

অন্যদিকে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তানে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইতালি সেখান থেকে সাময়িকভাবে তাদের সব সেনাসদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। ইতালির মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগে থেকেই শুরু হওয়া সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। বুধবারের ওই হামলায় কেউ হতাহত না হলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো ইতালীয় সংবাদ অনুষ্ঠান ‘টিজি১’-কে বলেন, ‘সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানে হামলায় যোগ দেওয়ার জন্য বিরোধী রাজনীতিবিদদের আহ্বান প্রতিহত করেছেন, কিন্তু মার্কিন-ইসরাইলি হামলার নিন্দা করেননি। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।