ইরানের রাজধানীতে যুদ্ধবিমানের হামলার মধ্যেও জনজীবন স্বাভাবিক, শোকসভায় প্রতিশোধের প্রত্যয়
তেহরানে যুদ্ধবিমান হামলার মধ্যেও জনজীবন স্বাভাবিক, শোকসভায় প্রতিশোধের প্রত্যয়

তেহরানে যুদ্ধবিমানের হামলা ও ইরানিদের দৃঢ় মনোবল

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে মাঝেমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জঙ্গিবিমান উড়ছে। সেগুলো থেকে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন স্থাপনায় পড়ে আগুন জ্বালাচ্ছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি করছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও তেহরানবাসী আতঙ্কিত নন। বরং তারা এই যুদ্ধকে জীবনের যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং অন্যায় হামলার সমুচিত জবাব দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সাংবাদিকের বর্ণনায় যুদ্ধের চিত্র

রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজী আবদুর রশিদের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১১তম দিনে তেহরানের অবস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনোভাব জানা গেছে। তিনি তেহরানের রহ অহান স্কয়ারে বসবাস করেন এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

গাজী আবদুর রশিদ বলেন, 'ইরানিদের মধ্যে সেই ভয় দেখিনি। ইরানিরা এই যুদ্ধকে তাঁদের জীবনের যুদ্ধ মনে করছেন। ফলে তাঁরা যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় বারবার ব্যক্ত করছেন।'

ইন্টারনেট বন্ধ ও দৈনন্দিন জীবন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটিতে কার্যত ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। আবদুর রশিদ জানান, শুধু তাঁর কর্মস্থল রেডিও তেহরানের কার্যালয়ে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়। তেহরানজুড়ে বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই তিনি প্রায় প্রতিদিন অফিস করছেন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার সরাসরি সাক্ষী হয়ে উঠছেন।

তিনি একটি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন: 'গতকাল লাইভ থেকে বের হয়ে যখন একটি শোকসভা দেখার জন্য যাচ্ছি, তখন মাথার ওপর দিয়ে শোঁ শোঁ করে উড়ে গেল বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। আতঙ্ক আর উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। তবে তখন হামলা হয়নি কোনো। হামলা হলো রাত ১২টায়। বিকট শব্দে ১৬-১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ল তেহরানের নিচু এলাকাগুলোতে। ঘন অন্ধকার চিরে এক ঝলক আলো উঁকি দিয়েই বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে গেল পুরো আকাশ।'

হামলা ও জনজীবনের গতি

গতকাল রাতে তেহরানে আরও হামলা হয়েছে বলে গাজী আবদুর রশিদ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত তেমন নেই। আজও তেহরানের আকাশে হঠাৎ হঠাৎ যুদ্ধবিমান হানা দিচ্ছে। তবে ইরানিদের মধ্যে আতঙ্ক কম। সেখানকার জনজীবনও অনেকটা স্বাভাবিক গতিতে চলছে। গণপরিবহন, দোকানপাট খোলা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম। অফিস-আদালত চালু রয়েছে, তবে সব চলছে না।'

শোকসভায় জনসমাবেশ

গতকাল তেহরানের ভ্যালিয়ার্স স্ট্রিট ও ইনকিলাব স্কয়ারে অনুষ্ঠিত শোকসভায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে গাজী আবদুর রশিদ জানান। তিনি বলেন, কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানুষ আর মানুষ ছিল। তাঁদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। তাঁরা বলছিলেন, 'মার্ক বার আমেরিকা, মার্ক বার ইসরায়েল' অর্থাৎ আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরায়েল নিপাত যাক।

এই শোকসভা ইরানিদের একতা ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা যুদ্ধের মধ্যেও তাদের মনোবলকে শক্তিশালী করে তুলছে।