ইরান যুদ্ধে তেলের দাম বাড়লেও পরিকল্পনা আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম বাড়লেও পরিকল্পনা আছে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে তেলের দাম বাড়লেও পরিকল্পনা আছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও, এই সংকট মোকাবেলায় তার কাছে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমেরিকান জনগণ খুব খুশি হবে এবং তেলের মূল্যও কমে যাবে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্য

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের দশম দিনে সোমবার (৯ মার্চ) ফোনে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, "আমার সবকিছুর জন্য একটি পরিকল্পনা আছে। আমি আশা করি, আমেরিকানরা এতে খুব খুশি হবে এবং তেলের দাম কমে যাবে।"

তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে বাধা দিলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২০ গুণ বেশি শক্তিতে আঘাত হানবে। ট্রাম্পের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের ওপর "মৃত্যু, আগুন এবং ক্রোধ" নেমে আসবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ ও কঠোর হুমকি

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বা যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন, যা তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ঘোষণা করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালী অবরোধ বা সেখানে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, "যদি ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।" তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "যদি ইরান এমন কিছু করে যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি আঘাত হানবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সহজেই ধ্বংসযোগ্য বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে, যার ফলে ইরানের জন্য পুনরায় একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।

গলফ ক্লাব বৈঠক ও চীনসহ অন্যান্য দেশের প্রতি বার্তা

দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় নিজের গলফ ক্লাবের বলরুমে তিন দিনের সম্মেলনে হাউস রিপাবলিকানদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তার এই কঠোর অবস্থানকে চীনসহ অন্যান্য দেশগুলো "উপহার" হিসেবে দেখা উচিত। কারণ, এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বজায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে, বিশেষজ্ঞরা এখন তার পরিকল্পনার বিস্তারিত ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন।