সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্পষ্ট ঘোষণা: ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবে না
আমিরাত: ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেবে না

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান: ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশগ্রহণ নয়

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জটিল প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। দেশটি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা করেছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতের স্পষ্ট বক্তব্য

জেনেভায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ সোমবার এক সভায় সাফ জানিয়েছেন যে, আমিরাতি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনও হামলা চালানো হবে না। তিনি জাতিসংঘ সংবাদদাতা সমিতির (এসিএএনইউ) সঙ্গে আলাপকালে বলেন, "আমরা বর্তমান পরিস্থিতির শুরু থেকেই অত্যন্ত স্পষ্ট ছিলাম যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলায় অংশ নেবে না এবং এ ধরনের সংঘাতের সঙ্গে আমরা জড়িত হব না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না, যা তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

অযাচিত লক্ষ্যবস্তু এবং হামলার পরিসংখ্যান

রাষ্ট্রদূত মুশারখ অভিযোগ করেন যে, যুদ্ধে পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অযাচিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির ওপর ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ক্রুজ মিসাইলের মাধ্যমে আক্রমণ
  • ব্যালিস্টিক মিসাইলের হামলা
  • ড্রোন দ্বারা পরিচালিত আক্রমণ

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে, বেসামরিক অবকাঠামো যেমন পানি শোধন কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে এই উসকানিমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এসব হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১১৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

শান্তি প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক আহ্বান

সংযুক্ত আরব আমিরাত শুরু থেকেই আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এর দুই দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দফায় হামলা শুরু করে, যা পরবর্তীতে পুরোদস্তুর যুদ্ধে রূপ নেয়। এই প্রেক্ষাপটে, আমিরাতের শান্তি উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ইরানের ক্ষমা প্রার্থনা এবং বাস্তবতা

এদিকে, গত শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চালানো হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আমিরাতি রাষ্ট্রদূত বলেন, "মাঠের বাস্তবতা নিজেই সব কথা বলে, আমার দেশ আক্রান্ত হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের কোনও পক্ষ নয়, তাই যুদ্ধে লিপ্ত নয় এমন তৃতীয় কোনও রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, যেখানে দেশটি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংঘাত নিরসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।