মিনাব স্কুল হামলায় ট্রাম্পের অস্বীকার, ভিডিও প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের দায়
ইরানের মিনাব শহরের শাজেরেহ তৈয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্বীকার অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন ভিডিও প্রমাণ ও বিশ্লেষণে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে আঘাত হানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু, যারা প্রাতঃকালীন ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের অস্ত্রশস্ত্র নিম্নমানের এবং তাদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা নেই। ট্রাম্প বলেন, "আমি যা দেখেছি, তার ওপর ভিত্তি করে আমার মনে হচ্ছে, এটি ইরানই করেছে।" তবে ইরান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার জন্য দায়ী করেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার সময় বিদ্যালয়ের পাশে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে।
ভিডিও বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত
সিএনএন এবং অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট ভিডিওটি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি টমাহক, যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ব্যবহার করে। অস্ত্রবিশেষজ্ঞ এনআর জেনজেন-জোনস গার্ডিয়ানকে বলেন, "ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। যুদ্ধের পক্ষগুলোর সক্ষমতা বিবেচনা করলে এটি একটি মার্কিন হামলা বলেই প্রতীয়মান হয়।" স্যাটেলাইট চিত্রেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে, যাতে খেলার মাঠ এবং রঙিন ম্যুরাল বিদ্যমান ছিল।
হামলার পরিণাম ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই হামলায় বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, এবং চারটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের ইউনেসকো বলেছে, বিদ্যালয়ে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনা তদন্তের কথা জানালেও এখনও কোনো স্পষ্ট ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যান্য ঘটনা ও চলমান সংঘাত
মিনাব হামলার আলোচনার মধ্যে ইরানের খোমেইন শহরের একটি স্কুলে গত সোমবার আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে মেহর নিউজ। এতে হাফেজ খোমেইনি স্কুল ও সংলগ্ন আবাসিক এলাকা বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জটিলতা ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলে ধরছে।
