ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১১ দিনে ১,৭০০ নিহত, তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১১ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। এই হামলার ফলে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেইসঙ্গে হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা ইরানে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে, এবং এরপরেই সোমবার (৯ মার্চ) ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে।
তেহরানে ভয়াবহ রাতের বর্ণনা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল গতকাল ইরানে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তেহরানে সোমবার দিবাগত রাতকে এখন পর্যন্ত অন্যতম ভয়াবহ রাত বলে অভিহিত করেছেন, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের মুহূর্ত তৈরি করেছে। তেহরান থেকে মোহাম্মদ ভাল জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে, এবং এত বেশি বিস্ফোরণ হয়েছে যে তার সঠিক সংখ্যা গণনা করাও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তেহরানে সংঘটিত বিশাল সব বিস্ফোরণের প্রভাবে আল-জাজিরার অফিসের জানালা পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে, যা হামলার তীব্রতা ও ব্যাপকতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। মোহাম্মদ ভালের মতে, তাদের কাছে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী তেহরানের উত্তরে অবস্থিত কারাজ এলাকাতেও একইভাবে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে।
পূর্ব তেহরান ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা
পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে অন্তত ৪০ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে যে সোমবার রাতে তেহরানের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল, এবং বিশেষ করে পূর্ব তেহরানের আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা গেছে, যা সম্ভবত বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের ফলাফল।
এ ছাড়া গতকাল ইসফাহান অঞ্চলেও অত্যন্ত তীব্র বোমাবর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে গভর্নরের কার্যালয় এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি প্রাচীন রাজপ্রাসাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। সেইসঙ্গে তাবরিজ অঞ্চল থেকেও বিস্ফোরণের খবর আসছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হামলার পরিধি দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
কিছু সূত্র জানিয়েছে যে ইসফাহানে সংঘটিত বিস্ফোরণগুলো সেখানকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি ছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে, এই হামলাগুলো ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে, এবং ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
