মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন যুক্তরাজ্যে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে তিনটি শক্তিশালী বি-৫২ স্ট্রাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এই বিমানগুলো সেখানে অবতরণ করে, যা গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বিমানের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বি-৫২ বিমানের সামরিক গুরুত্ব
১৯৫০-এর দশকে মার্কিন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া এই বিশালকার বিমানগুলো পারমাণবিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চলমান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র অংশ হিসেবে এই মোতায়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বি-৫২ বিমানগুলো মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর পাল্লা ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে থাকায় এটি বি-৫২ ও বি-১বি ল্যান্সারের মতো ভারী বোমারু বিমানের জন্য আদর্শ স্থান। এর আগে গত সপ্তাহান্তেই সেখানে বেশ কয়েকটি বি-১বি ল্যান্সার বিমান পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্য সরকার সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর এই মোতায়েন শুরু হয়।
মোতায়েনের কৌশলগত প্রভাব
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মূল ভূখণ্ড থেকে সরাসরি মিশনে গিয়ে ইরানে স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছিল। এখন ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিকে ব্যবহারের ফলে হামলার সময় ও দূরত্ব অনেকটাই কমে আসবে। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে থাকা সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ 'মিসাইল সিটি' লক্ষ্য করে হামলার জন্য এই বিমানগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক তৎপরতা দেখতে ঘাঁটির চারপাশে প্রচুর মানুষ ও সংবাদকর্মী ভিড় জমিয়েছেন। বি-৫২ বিমানগুলো থেকে ইতিমধ্যে ইরাক বা পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মোতায়েনকে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
