ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির আহ্বান, ১১ দেশের কাছে সহায়তা চাওয়া
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করার লক্ষ্যে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইরানের প্রতিবেশী দেশসহ মোট ১১টি রাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই অনুরোধের কথা নিশ্চিত করে বলেন, রুশ হামলায় ব্যবহৃত ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইউক্রেন এখন এই দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে কাজে লাগাতে চাইছে।
জীবন রক্ষা ও প্রশিক্ষণে আগ্রহ
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, জীবন রক্ষা, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার প্রতি বিশ্বের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন সেইসব দেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত যারা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষায় সাহায্য করছে।’ ইতোমধ্যে কিছু অনুরোধের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের কার্যকারিতা
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটনের অনুরোধে গত বৃহস্পতিবার জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং একদল বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে ইউক্রেন। এই ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় এগুলো ‘শাহেদ’ ড্রোনের মতো আক্রমণ প্রতিহতে অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশের বাজারে রপ্তানির উদ্দেশ্যে এই ড্রোনের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আলোচনা ও সহযোগিতা
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের কাছ থেকে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে আলোচনা চলছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিজের দেশের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যান্য দেশের অনুরোধগুলোতে কীভাবে সাড়া দেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছে ইউক্রেন। এই সহযোগিতার বিনিময়ে ইউক্রেন তার মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আশা করছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউক্রেন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক স্তরে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির বাজারে নিজের অবস্থানও শক্তিশালী করতে চাইছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এই আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
