ইসরাইলের হামলার দশম দিন: ইরানের শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা অব্যাহত
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার দশম দিনে গড়াল। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলে ‘শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করার পর প্রথম এ ধরনের অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলে ‘ইরানের শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। এই ঘোষণা আসে ঠিক তখন, যখন তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলার খবরও প্রকাশ করে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলাগুলো ইরানের শাসন কাঠামোকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ জন ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন শত শত ইরানি নাগরিক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করলে হামলা অব্যাহত থাকবে। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই হামলাগুলো ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযান ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাবকে সীমিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন।



