ইউরোপের অস্ত্র আমদানি তিনগুণ বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্য শীর্ষ ক্রেতা অঞ্চল
ইউরোপের অস্ত্র আমদানি তিনগুণ বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্য শীর্ষে

ইউরোপের অস্ত্র আমদানিতে ব্যাপক বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারে নাটকীয় পরিবর্তন

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিতে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউরোপের অস্ত্র আমদানি ২০১৬-২০২০ সময়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত করেছে।

রাশিয়ার হুমকি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রধান কারণ

প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা হ্রাস পাওয়াই ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যাপক অস্ত্র আমদানির মূল কারণ। এসআইপিআরআই-এর অস্ত্র স্থানান্তর কর্মসূচির পরিচালক ম্যাথিউ জর্জের মতে, "ইউরোপীয় দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহের এই তীব্র বৃদ্ধি বৈশ্বিক অস্ত্র স্থানান্তর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।"

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মোট অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশই ইউরোপের দখলে চলে এসেছে, যেখানে আগের পাঁচ বছরের সময়কালে এই হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ইউক্রেনকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করা
  • দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগের পর নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করা

মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি ১৩ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই কমতি সাময়িক বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সৌদি আরব এবং কাতার এখনও বিশ্বের শীর্ষ চার অস্ত্র ক্রেতা দেশের মধ্যে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসআইপিআরআই-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক পিটার ওয়েজম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, "আগের সময়ে সৌদি আরব যে বড় বড় অস্ত্র অর্ডার দিয়েছিল, সেগুলো এখনও সম্পূর্ণভাবে ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়নি—এ কারণেই আপাতভাবে আমদানির পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই এই অঞ্চলের দেশগুলো নতুন করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্রের অর্ডার দিয়েছে, যেগুলো এখনও পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ও রাশিয়ার পতন

অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার শীর্ষস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ এখন ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ৩৬ শতাংশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান, যার বৈশ্বিক অংশ ৯.৮ শতাংশ।

অন্যদিকে রাশিয়ার অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানির অংশ ২১ শতাংশ থেকে নেমে ৬.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সম্মিলিত অস্ত্র রপ্তানির অংশ এখন ২৮ শতাংশ, যা রাশিয়ার প্রায় চার গুণ এবং চীনের প্রায় পাঁচ গুণ।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমান সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভবিষ্যতে অস্ত্র কেনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়েজম্যানের মতে, "দেশগুলো আগে ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করবে। পাশাপাশি নিজেদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে নতুন সরঞ্জাম কেনার দিকেও তারা নজর দেবে।"

ইউরোপীয় দেশগুলো নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।