মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, ৩২ হাজার মার্কিন নাগরিক দেশে ফিরেছেন
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনা জারির পর থেকে ৩২ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক অঞ্চলটি ত্যাগ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জরুরি অপারেশন
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা প্রায় দুই ডজন চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে হাজার হাজার নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক আপডেটে দফতরটি নিশ্চিত করে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মোট ৩২ হাজার মার্কিন নাগরিক দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
আপডেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা প্রাথমিকভাবে সরকারি সহায়তা চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পরে সরকারের দেওয়া পরিবহন সুবিধা গ্রহণ না করে বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা বেছে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রভাবকে নির্দেশ করে।
বিমানবন্দর বন্ধ ও ব্যক্তিগত জেটের ব্যবহার
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ বিমানবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সংকটে হাজার হাজার মানুষ অঞ্চল ত্যাগের জন্য চেষ্টা করছেন, যার ফলে অনেকে ব্যক্তিগত জেট ভাড়া করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন।
ইরানের হামলায় সপ্তম মার্কিন সৈন্য নিহত
এদিকে, চলমান যুদ্ধে নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের হামলায় আহত এক মার্কিন সৈন্য মারা গেছেন। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় এই সৈন্য গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এই মৃত্যুর মাধ্যমে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
হিজবুল্লাহর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরইয়াত শামোনায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শহরটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৫:৫৫) এই হামলা চালানো হয়। বৈরুতসহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলের হামলার জবাবে এই প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত করছে, যার প্রভাবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।



