ইরানের জ্বালানি ডিপোতে হামলায় আগুনের নদী, যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৭৩
ইরানের জ্বালানি ডিপোতে হামলা, যুদ্ধে মৃত ১,৩৭৩

ইরানের জ্বালানি ডিপোতে হামলায় ভয়াবহ আগুন, নিহত বেড়ে ১,৩৭৩

ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর পশ্চিমে কারাজ শহরে তেলের ডিপো ও শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন, যা দেশটিতে চলমান যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ১,৩৭৩-এ নিয়ে গেছে। কুণ্ডলী পাকানো আগুনে রাতের আকাশ রক্তাভ রং ধারণ করে, আর নালায় ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়।

হামলার বিস্তারিত ও ভয়াবহতা

গতকাল রোববার যুদ্ধের নবম দিনে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। তেহরানের শাহরান তেলের ডিপোতে হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে দেখা যায় বিধ্বস্ত ডিপো থেকে তেল নালা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সড়কের পাশে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা সিএনএনকে বলেন, ‘গত রাতে আমি বিস্ফোরণ দেখেছি, যা আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল যেন কিয়ামত শুরু হয়েছে।’ দিনের বেলায় তেহরানের আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল, সূর্য দেখা যায়নি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বিষাক্ত বৃষ্টি ঝরার বিষয়ে সতর্ক করেছে, যা ত্বক ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। তেল স্থাপনায় হামলার পর তেহরান প্রশাসন নাগরিকদের তেল নেওয়ার সীমা দিনে ২০ লিটারে কমিয়ে দিয়েছে, আগে যা ৩০ লিটার ছিল। গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান আশ্বস্ত করেছেন যে শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক প্রভাব

ইরান গতকালের হামলার জবাবে সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটে একটি কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। কুয়েতে বিমানবন্দর, জ্বালানি ডিপো ও নিরাপত্তা ভবনে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন, এবং কুয়েত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফায় ইরানের হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা এ যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, এবং ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে ৩,৪০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়েনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও চলমান সংঘাত

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন যে ইরানে হামলা চালানো উচিত হয়নি এবং অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না।’ এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন যে ওয়াশিংটনের তেল শিল্পে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই, এবং ইসরায়েলই এই হামলা চালিয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় শিশুসহ ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন, এবং হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, এবং শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ায় ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে যে ইরান থেকে ২৩০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১,৪০০টির বেশি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন, এবং বিশেষজ্ঞ পর্ষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। চলমান এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের তীব্র নজর রয়েছে এই পরিস্থিতির উপর।