ট্রাম্পের বক্তব্য: ইরানে কুর্দিদের অংশগ্রহণে বিরোধিতা, যুদ্ধের জটিলতা বাড়ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইরাকি কুর্দি যোদ্ধাদের অংশগ্রহণে স্পষ্ট বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমি চাই না কুর্দিরা ইরানে যাক। তারা যেতে প্রস্তুত, কিন্তু আমি তাদের বলেছি সেখানে না যেতে। যুদ্ধ এমনিতেই যথেষ্ট জটিল। আমরা চাই না কুর্দিরা আহত বা নিহত হোক।’ এই মন্তব্য তিনি করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার সময়।
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন: আগে সমর্থন, এখন বিরোধিতা
মজার বিষয় হলো, এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প কুর্দিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তারা যদি এটি করতে চায়, সেটি দারুণ ব্যাপার হবে—আমি পুরোপুরি সমর্থন করব।’ এমনকি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার কথাও জানা যায়। তবে পরে কেন তার অবস্থান বদলেছে, তা স্পষ্ট নয়। এই পরিবর্তন সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এসেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও বিতর্ক
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইরাকে অবস্থানরত ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এতে ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরাকি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে ঢুকেছে। তবে ইরাক সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষ এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না।
আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম ইরানের কিছু এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে সীমান্তবর্তী শহরগুলো দখল করতে চাওয়া কুর্দি মিলিশিয়াদের সহায়তা করা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য যুদ্ধের গতিপথ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্পের অন্যান্য মন্তব্য ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ
শনিবারের বক্তব্যে ট্রাম্প আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে হামলায় প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়, তার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়েছে, হামলাটি সম্ভবত মার্কিন বাহিনীরই ছিল। এছাড়া তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নাকচ করেন। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। বরং তিনি এমন একজন নতুন নেতা বেছে নিতে চান, যিনি দেশটিকে আর যুদ্ধে জড়াবেন না। তার ভাষায়, চলমান বিমান হামলা যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং সম্ভাব্য নেতারা নিহত হন, তাহলে আলোচনার বিষয়টিই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, যুদ্ধ ‘আরও কিছুদিন চলবে’, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলতে অস্বীকৃতি জানান। যদিও তার প্রেস সেক্রেটারি আগেই বলেছিলেন, সংঘাতটি চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এখন আর আমাদের সেগুলোর প্রয়োজন নেই। তবে আমরা মনে রাখব—যারা যুদ্ধ প্রায় শেষ হওয়ার পর যোগ দেয়, তাদের আমাদের দরকার নেই।’
মার্কিন স্থলবাহিনী ইরানে মোতায়েন করা হতে পারে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হতে পারে। তবে সেটির জন্য খুব শক্তিশালী কারণ থাকতে হবে।’ ইরানে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র সেটি উদ্ধার করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে তা করা হতে পারে।
এই সমগ্র পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধের গতিপথ অনিশ্চিত এবং ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।



