ট্রাম্পের ইরান পরিকল্পনা: তেলসমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে নতুন দেশ গঠনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ট্রাম্প ইরানের তেলসমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে নতুন দেশ চান: শিক্ষাবিদ

ট্রাম্পের ইরান পরিকল্পনা: তেলসমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে নতুন দেশ গঠনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ইরানের তেলসমৃদ্ধ এলাকা নিয়ে নতুন দেশ গঠনের ষড়যন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলে অভিযোগ করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার চেয়ে তেলের প্রতি বেশি আগ্রহী, যা তাদের এই পরিকল্পনার পেছনে মূল কারণ।

ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা

অধ্যাপক ইজাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে। তিনি ট্রাম্পের একটি বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের মানচিত্র আর আগের মতো থাকবে না। এটি প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিকে 'বলকানাইজ' করার, অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত করার, পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের তেলপ্রীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইজাদি আরও বলেন, 'আমি মনে করি, ট্রাম্প ইরানের তেলসমৃদ্ধ অংশগুলো আলাদা করতে আগ্রহী, যা পারস্য উপসাগরের উত্তর দিকে অবস্থিত। তিনি সম্ভবত তেলসমৃদ্ধ এই অংশগুলোর দায়িত্বে কাউকে বসিয়ে দেবেন এবং ইরানের বাকি অংশ নিয়ে তার তেমন কোনো মাথাব্যথা থাকবে না।' তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের অন্য অংশ প্রতিবেশী দেশগুলো দখল করে নিতে পারে, অথবা তেল না থাকলে সেগুলো এমনিই ফেলে রাখা হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের তেলপ্রীতির কথা উল্লেখ করে ইজাদি বলেন, ট্রাম্প তেল পছন্দ করেন—তিনি ভেনিজুয়েলার তেল পছন্দ করেন, তিনি ইরানের তেলও পছন্দ করেন। তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এমন একটি অকার্যকর সরকার প্রয়োজন, যেখানে কোনো নেতা থাকবে না। তারা (ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র) সম্ভবত ইরানের প্রেসিডেন্টকেও হত্যা করতে চাইবে, যা ইরান সরকারের পতন ঘটাতে পারে এবং দেশটির মানচিত্র বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি উত্তপ্ত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রসঙ্গেও আলোচনা চলছে, যা অধ্যাপক ইজাদির বক্তব্যের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি চীনের হুঁশিয়ারির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা এই পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে তুলছে।

সামগ্রিকভাবে, অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদির এই মন্তব্যগুলো ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, বিশেষ করে তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে।