ইরানে যৌথ হামলায় খামেনি নিহত, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ক্ষমতা পরিবর্তনের সন্দেহ
ইরানে হামলায় খামেনি নিহত, মার্কিন প্রতিবেদনে সন্দেহ

ইরানে যৌথ হামলায় খামেনি নিহত, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ক্ষমতা পরিবর্তনের সন্দেহ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই ঘটনায় ইরানি জনগণ খামেনির ছবি হাতে শোক প্রকাশ করছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিল (এনআইসি) একটি গোপন প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালালেও দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নাও হতে পারে। এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ‘যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে’। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে দিয়ে দেশটিতে নিজের পছন্দমতো শাসক বসানোর পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন তার সফলতা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনের সময় ও বিশ্লেষণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রায় এক সপ্তাহ আগে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনটি ইরানের ক্ষমতার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে, যেখানে বলা হয়েছে:

  • সীমিত আকারের অভিযান বা বিস্তৃত হামলা উভয় ক্ষেত্রেই খামেনি নিহত হলে ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
  • ইরানের বিভক্ত বিরোধী দলগুলোর পক্ষে ক্ষমতা গ্রহণের সম্ভাবনা কম।

এনআইসি ওয়াশিংটনের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে গোপন প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে, ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার অনুমতি দেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল কিনা, হোয়াইট হাউস সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সংঘাতের বিস্তার ও পূর্বাভাসের বাস্তবায়ন

ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর দ্রুত সংঘাত পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে সাবমেরিন যুদ্ধও অন্তর্ভুক্ত। পশ্চিম দিকে ক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধ ন্যাটো সদস্যদেশ তুরস্কের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইরানের বিরোধী পক্ষের ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহের কথা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইরানবিষয়ক গবেষক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যুজান মালোনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের ভিত্তিতে এনআইসি ইরানের প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে, অন্যান্য সম্ভাব্য পরিস্থিতি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনা পাঠানো বা কুর্দি জনগোষ্ঠীকে বিদ্রোহে উসকে দেওয়া বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

গোপন প্রতিবেদনে বড় আকারের অভিযান নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা বর্তমান অভিযানের সাথে মিলে কিনা তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। তবে, প্রতিবেদনে ইরানে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমানে বাস্তবে ঘটছে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশ ও সমুদ্র থেকে ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।