কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
কুয়েতে ড্রোন হামলায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত, বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত

কুয়েতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: দুই সীমান্তরক্ষী নিহত, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

কুয়েতে রবিবার ভোরে এক বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দেশটির অন্তত দুজন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত দুই কর্মকর্তা হলেন লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইমাদ আল-শারা এবং ক্যাপ্টেন ফাহদ আব্দুল আজিজ আল-মাজমুদ। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় দায়িত্ব পালনের সময় তারা নিহত হন, তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রবিবার সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং কুয়েত সিটির একটি সরকারি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে কাজ করেছেন দমকলকর্মীরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ওই ভবনে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

কুয়েত সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রবিবার ভোরে আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একঝাঁক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করেছে। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধ-সম্পর্কিত প্রাণহানির ধারাবাহিকতা

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েতে যুদ্ধ-সম্পর্কিত প্রাণহানির এটি সবশেষ ঘটনা। গত সপ্তাহেও দেশটিতে দুই সেনা সদস্য ও এক শিশু নিহত হয়েছিল, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে। এই হামলাগুলো কুয়েতের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেশটি আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করছে।

এই ঘটনাটি কুয়েতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হামলার তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।