ইরানের আইআরজিসি দাবি: 'তীব্র যুদ্ধ' অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে
ইরানের আইআরজিসি: 'তীব্র যুদ্ধ' ৬ মাস চালানোর সক্ষমতা

ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে নতুন দাবি

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান আকার ও মাত্রার 'তীব্র যুদ্ধ' অন্তত ছয় মাস ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। এই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরজিসি মুখপাত্রের বিবৃতি

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।' তার এই বক্তব্য ইরানের সামরিক শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিপরীত

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইনির এ দাবি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যায়নের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমরা এ যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি। আমরা তাদের পুরো 'শয়তানি সাম্রাজ্য' গুঁড়িয়ে দিয়েছি।'

আইআরজিসির প্রভাব ও ভূমিকা

আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী একটি সংস্থা হিসেবে পরিচিত। এই বাহিনীর প্রভাব কেবল সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসির সক্ষমতা নিয়ে এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির এই বিবৃতি ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল ও সামরিক প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের মাত্রা সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর স্থায়িত্ব ও সহনশীলতা নিয়ে এই দাবি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।