মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শিশু জয়নাবের মর্মান্তিক মৃত্যু, যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তেজনা চরমে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে দুই বছরের শিশু জয়নাব সাহেবি প্রাণ হারিয়েছেন। তার প্রিয় পুতুলটি কফিনে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা মর্মস্পর্শী দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। গতকাল শনিবার যুদ্ধের অষ্টম দিনে হামলা আরও তীব্র হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আত্মসমর্পণ নাকচ করেছেন।
হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার
গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর ও ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইরানের জবাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বিমানঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
ট্রাম্পের কঠোর হুমকি ও পেজেশকিয়ানের জবাব
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বিবৃতিতে ইরানকে 'খুবই কঠোরভাবে আঘাত' হানার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ও হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্যে আত্মসমর্পণের যেকোনো ধারণাকে 'দিবাস্বপ্ন' বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে পাল্টা হামলা চালানো হবে না, তবে শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে।
লেবাননে হামলা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা ৩৩৯-এ দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে, আরব লিগ জরুরি বৈঠক ডেকেছে এবং যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের নেতারা কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছেন। লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ ইরানে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে যদি না তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সমাধান পাওয়া যায়।
