তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা, পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা দফায় দফায় অব্যাহত রয়েছে, যার প্রত্যুত্তরে ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে চলেছে। এই সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের হামলার টার্গেট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা।
হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত হানছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি-আসগর হেজাজিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, কোম শহরে যৌথ হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে এবং নাতাঞ্জ শহরের কাছেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, এ সপ্তাহে ইরানে তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর গত এক সপ্তাহে তেহরানের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, যা সামরিক শক্তির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
ইরানের পাল্টা হামলা ও কৌশলগত লক্ষ্য
অন্যদিকে, ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে থাড রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে, পাশাপাশি কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের এফপিএস-ওয়ান থার্টি টু রাডার ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা অপারেশন ট্রু প্রমিজের ২৩তম দফা পরিচালনা করেছে, যার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ও হাইফার সামরিক স্থাপনা।
তবে তেলআবিবের দাবি, এসব হামলায় কেউ হতাহত হয়নি, যদিও ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। শুক্রবারের অভিযানে আইআরজিসি খোররামশার-ফোর মিসাইল ব্যবহারের কথা জানিয়েছে এবং ইরাকের বসরায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিদেশি তেল কোম্পানির কর্মীদের আবাস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য লড়াই করছে। হামলার ধারাবাহিকতা এবং পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
