ইসরায়েলের 'ব্লু স্প্যারো' হামলায় ইরানের খামেনিসহ ৪০ নেতা নিহতের দাবি
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের খামেনি নিহতের দাবি

ইসরায়েলের গোপন হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের নিহতের দাবি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েক ডজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। নিউইয়র্ক পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল অত্যন্ত গোপন ও পরিকল্পিত একটি অভিযানে এই হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের জন্য মারাত্মক এক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

'ব্লু স্প্যারো' ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক আঘাত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল খামেনিকে লক্ষ্য করে 'ব্লু স্প্যারো' নামে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ থেকে নিক্ষেপের পর বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে মহাশূন্যে উঠে যায় এবং পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সোভিয়েত আমলের 'স্কাড' ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি একটি উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র, যা প্রায় ১ হাজার ২৪০ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ পশ্চিম ইরাক পর্যন্ত গিয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এই হামলা চালানো হয়, যা স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তৎপরতা

হামলার দিনটি ইসরায়েলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ধারণা তৈরি করেছিলেন যে সেনাবাহিনীর সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই কৌশলের আড়ালেই তারা আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা করে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে এমন কিছু ছবি ও তথ্য প্রচার করা হয়েছিল যাতে মনে হয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক 'সাবাত ডিনার'-এর জন্য বাসায় চলে গেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু বাস্তবে তারা ছদ্মবেশে পুনরায় সদর দপ্তরে ফিরে গিয়ে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে হামলাটি রাতে চালানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের শনিবার সকালের একটি বৈঠকের তথ্য গোয়েন্দারা জানতে পারলে হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়।

মোসাদের নিবিড় নজরদারি ও হামলার বিস্তারিত

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ডের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছিল। সেখানে বসানো নজরদারি ক্যামেরা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের গতিবিধি নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। হামলার সময় খামেনির কম্পাউন্ড এলাকার একাধিক মোবাইল ফোন টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছাতে না পারে।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসরায়েল এফ-১৫সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর যুদ্ধবিমান থেকে 'ব্লু স্প্যারো'সহ প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি খামেনির কম্পাউন্ডকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত দ্রুতগতি ও প্রতিরোধ করা কঠিন একটি প্রক্রিয়া ছিল।

নিহতদের তালিকা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের ৪০ জনের বেশি শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আব্দুর রহিম মুসাভিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সকল দাবির বিষয়ে ইরান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং এর ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে।