মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে রাশিয়া সরাসরি সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে তিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই দাবি করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের পরোক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রথম ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিস্তারিত
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করছে। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এটিকে "বেশ বড় আকারের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা" বলে বর্ণনা করেছেন। যদিও রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেয়নি, মস্কো পূর্বে এই সংঘাতকে "বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন" বলে অভিহিত করে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের হামলার সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উন্নতি
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সহায়তা ছাড়া ইরানের পক্ষে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন ছিল। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ দারা ম্যাসিকট উল্লেখ করেন, "ইরান আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডারগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানছে এবং পরিকল্পিতভাবে কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে নিশানা বানাচ্ছে।" হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কিও ইরানের হামলার মানে "প্রযুক্তিগত উন্নতি" লক্ষ্য করেছেন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করার ক্ষমতায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত প্রভাব
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি ইরানের অবস্থান "পুরোপুরি বিধ্বস্ত" বলে দাবি করলেও, পেন্টাগন ও সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রাশিয়া ও চীনকে "বড় প্রভাবক নয়" বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া এই সংঘাত থেকে তেল বিক্রি করে বাড়তি আয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পশ্চিমাদের মনোযোগ সরানোর সুবিধা নিতে চাইছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ পরিবর্তন
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ছায়াযুদ্ধের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল,而现在 রাশিয়া সেই সহযোগিতার প্রতিদান দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, "আমরা ইউক্রেনীয়দের যে সহায়তা দিচ্ছি, সে সম্পর্কে রাশিয়া সচেতন এবং তারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে খুশি।"
গত রোববার কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় রাশিয়ার গোয়েন্দা ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও রাশিয়া সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে অনিচ্ছুক, তাদের এই সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করছে।
