ইরানি কুর্দিদের লক্ষ্যে হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে। কুর্দিশ ফ্রিডম পার্টি (পিএকে) সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী তাদের নিজেদের এবং মিত্রদের সুরক্ষার জন্য ইরাকের এরবিলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই খবর নিশ্চিত করেছে।
পিএকে মুখপাত্রের বক্তব্য
পিএকে-র মুখপাত্র খলিল নাদেরি মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "মিত্রদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এরবিলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। তবে এই ব্যবস্থা পুরো কুর্দিস্তান অঞ্চলের জন্য এখনও পর্যাপ্ত নয়।" তিনি আরও জানান, শুক্রবার পিএকে-র একটি ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। এর আগে বুধবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল এরবিল বিমানবন্দর ও নিজস্ব স্থাপনা রক্ষায় ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ বা ২০২৪ সালের ইরানি হামলায় কুর্দিদের প্রাণহানি ঘটলেও, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক ডজন হামলার বিপরীতে প্রাণহানি অনেক কম। এটি প্রমাণ করে যে, মার্কিন ব্যবস্থা এখন ইরানি কুর্দিদের লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ভূপাতিত করছে।
ইরানি কুর্দি বিরোধী দলের জোট
গত ২২ ফেব্রুয়ারি গঠিত পাঁচটি প্রধান ইরানি কুর্দি বিরোধী দলের জোট ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান-কে উৎখাতের ঘোষণা দিয়েছে। পিডিকেআই, পিজেএকে, কোমালা, খাবাত ও পিএকে-র এই জোট এখন সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেছেন, ইরানি কুর্দি বাহিনী যদি ইরাক সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, তবে তা হবে "চমৎকার" একটি বিষয়। পর্দার আড়ালে কুর্দি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা বা সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিশ্লেষণ
সাবেক কুর্দি গোয়েন্দা কর্মকর্তা রঞ্জ তালবানি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র এখন 'রেজিম চেঞ্জ' বা ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে আপসহীন। কুর্দি এলাকাগুলোকে মুক্ত করতে তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
কুর্দি নেতাদের অবস্থান
তবে কুর্দি নেতারা এখনই সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। পিডিকেআই-এর উপ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মওলুদি বলেন, "আমরা এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়াইনি। আমরা বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণার কথা শুনছি, কিন্তু এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি।"
ইরানের হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যদি সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করে, তবে ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) সব স্থাপনায় বড় আকারের হামলা চালানো হবে।
