ইরান যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র মজুত নিয়ে হেগসেথের দাবি: 'পর্যাপ্ত গোলাবারুদ আছে'
ইরান যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র মজুত নিয়ে হেগসেথের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেগসেথের জোরালো বক্তব্য

বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার টাম্পায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন এ হামলার গতি বজায় রাখতে পারবে না বলে যদি ইরান মনে করে থাকে, তবে তারা ভুল হিসেব করেছে। তিনি বলেন, ইরান আশা করছে যে আমরা এটি চালিয়ে যেতে পারব না, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের জন্য একটি অত্যন্ত ভুল হিসেব

মার্কিন সামরিক সক্ষমতা

হেগসেথ আরও যোগ করেন, আমেরিকান ইচ্ছাশক্তির কোনো ঘাটতি নেই। মার্কিন আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক অস্ত্রের মজুদ এ হামলাকে ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যেতে সক্ষম করবে, যতদিন না মার্কিন লক্ষ্য অর্জিত হয়। তার মতে, হামলার শুরুর দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী বিধ্বংসী ও নিখুঁত হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ যুদ্ধে অক্ষম হয়ে পড়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অকেজো করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের খবর প্রত্যাখ্যান

ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ ইগল স্ট্রাইক ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে বলে ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে হেগসেথ স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইরান মিথ্যা, প্রতারণা এবং সংখ্যা ও বাস্তবতাকে বাড়িয়ে প্রচার করার জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করছে, যার মূল লক্ষ্য তাদের নিজেদের জনগণের কাছে অপপ্রচার চালানো

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল্যায়ন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। গত ৭২ ঘণ্টায় মার্কিন বোমারু বিমানগুলো তেহরানের আশপাশের এলাকাসহ ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন:

  • মার্কিন বাহিনী ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়ে বা ধ্বংস করেছে
  • হামলার প্রথম দিনের তুলনায় মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে
  • ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে

পরবর্তী সামরিক কৌশল

কুপার স্পষ্ট করে বলেন, হামলার পরবর্তী ধাপ হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা। আমরা কেবল তাদের যা আছে তার ওপরই আঘাত করছি না, বরং তাদের পুনরায় তৈরি করার সক্ষমতাও ধ্বংস করছি। তিনি জানান, এই প্রচেষ্টা সফল হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রেখেছে।

যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে যখন ইরান উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। অন্যদিকে, মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই অস্বীকার করেছে।

হেগসেথ শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বর্তমানে যে পরিমাণ যুদ্ধশক্তি প্রয়োগ করতে পারে, তা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বেশি। মার্কিন বাহিনীর আকাশ আধিপত্য ইরানের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে প্রচণ্ড শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে আঘাত করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।