হিজবুল্লাহর নির্দেশে ইসরাইলি বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সীমান্তের কাছে বসবাসকারী বাসিন্দাদের জন্য জরুরি এলাকা ছাড়ার নির্দেশ জারি করেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরের দিকে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, লেবানন সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটার বা প্রায় ৩ মাইলের মধ্যে অবস্থিত ইসরাইলি শহর ও বসতিগুলোর বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা খালি করতে হবে।
ইসরাইলের বিমান হামলার প্রেক্ষাপট
এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর লেবাননে পরিচালিত একের পর এক বিমান হামলা। ইসরাইলি বাহিনী এর আগে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল, যা হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হিজবুল্লাহ তাদের বার্তায় স্পষ্ট করে বলেছে, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপদ নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানুষকে উচ্ছেদের অভিযান কোনোভাবেই অপ্রতিদ্বন্দ্বিত থাকবে না।’
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষিতে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইরানি শাসনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযানের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। হিজবুল্লাহর নির্দেশ ইসরাইলি বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, পাশাপাশি লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে করে কোনো বড় ধরনের সংকট এড়ানো যায়।
