ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত, সামরিক-অর্থনৈতিক চাপ

ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানোর মতো সামরিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ আরও ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বুধবার (৪ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইসরায়েলে হামলা ও জনসমর্থন

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। এতে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত জারি করা হচ্ছে, স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে তেল আবিব ও হাইফা শহরে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং অনেক বাসিন্দাকে বারবার বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

তবে আপাতত দেশটিতে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন বেশ শক্তিশালী। বহু ইসরায়েলি মনে করেন, ইরান তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। এর ফলে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনও বেড়েছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেনিয়েল বার তাল বলেন, "ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী— সব জায়গায় এই ধারণা জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"

সামরিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইসরায়েলের বড় প্রশ্ন হবে— তারা কতদিন একই মাত্রায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার বলেন, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে:

  • আয়রন ডোম
  • ডেভিড স্লিং
  • অ্যারো-৩

তবে দীর্ঘ সময় হামলা চলতে থাকলে প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে ইসরায়েলকে সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অর্থনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের ব্যয়

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ পরিচালনায় দেশটির ব্যয় ছিল প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ কারণে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো ইসরায়েলের সার্বভৌম ঋণমান কমিয়ে দেয়।

তবে অর্থনৈতিক সংকটই যুদ্ধ থামানোর প্রধান কারণ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র উন্নত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাতের দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।